বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস…

অন্য সময়ে বুঝি, লকডাউনের বাজারে আরও গভীর ভাবে উপলব্ধি করছি সমস্যাটা।

দুটি মানুষের অজ্ঞতার দাম দিতে হয় একটা কচি প্রাণকে। জীবনভর। বারে বারে তার নরম হাতে সুঁচ ফোটানো হয়। কারো কারো মাসে তিন-চার বার। প্রতিবার রক্ত দেওয়ার সময়ে বাবা মায়ের চিন্তার মেঘ ঘনায়। গতবারের মতো এবারেও কি শ্বাসকষ্ট হবে? কিংবা জ্বর? অথবা অ্যালার্জি? যাদের বাচ্চার রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ, তারা ভাবতে থাকেন পরের বারে রক্ত পাবো তো? অথবা ডোনার?

রক্ত না পেলে হিমোগ্লোবিন যদি আগের বারের মতো ৪-এ নেমে যায়! তখন কি হবে? ব্লাড টেস্টের খরচা কত্তো বেড়ে গেছে! আর ট্রান্সফিউশন কস্ট? সে ও কম কি! প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকও তাদের চার্জ বাড়িয়েছে কতো!

আপনাদের ওপরে মাঝে মাঝেই প্রবল রাগ হয়। জানেন, আপনাদের অজ্ঞতা, অবহেলা, কুসংস্কারের দায় বয়ে বেড়াতে হয় বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েগুলো কে। বিয়ের আগে পাত্রের পে প্যাকেট পরীক্ষা করেন, মেয়ের কোষ্ঠী পরীক্ষা করেন, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করেন, অথচ সামান্য টাকা খরচা করে HPLC Test করাতে আপনাদের যতো সমস্যা। সত্যি বলছি, বিশ্বাস করুন, আপনারা, যারা অতি উচ্চ শিক্ষিত, সমাজের এলিট ক্লাস ভুক্ত, যখন আপনাদের ঘরেও থ্যালাসেমিক বাচ্চা দেখি, তখন মনে হয় আপনার সাথে স্কুলের চৌকাঠ না মাড়ানো ভ্যান চালকের কোনো ডিফারেন্স নেই। দুজনেরই অজ্ঞানতার মাশুল গুনছে তাদের সন্তান।

●তাই বিয়ে করতে যাওয়ার আগে সবার প্রথম পাত্র-পাত্রীর HPLC Test করান। দুজনেই যদি থ্যালাসেমিয়ার কেরিয়ার (বাহক) হন, বিয়ে বন্ধ করুন।

●যদি দুজনেই কেরিয়ার হন, তাহলে সন্তান ধারণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত ত্রুটি। কেবলমাত্র সচেতনতাই পারে এই পৃথিবী কে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত করতে।

Today is World Thalasemia Day

লেখক- অনুপম ভট্টাচার্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here