চক্রান্তের জেরে নিরীহ ছাগল যখন বিষাক্ত কুকুর হয়ে যায়

কি ভাবছেন? এখানেই শেষ? করোনা ভাইরাসের সমস্যা কেটে গেলে আপনারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন? সেটা হলে তো ভালোই। কিন্তু মনে হচ্ছে — সে গুড়ে বালি। দেশে শয়তানি চক্রান্ত চলছে, চলতেই থাকবে। এই করোনা নামক মহা বিপদকে হাতিয়ার করেই আপনাদের বিরুদ্ধে তৈরি করা হবে আরও জোরদার একটি ঘৃণার রণনীতি। সেটা শুরু হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই। এই তালে ভাবছেন, এনআরসি আতঙ্ক থেকে আপাতত বোধহয় মুক্তি! ও বিষয়টি হয়তো স্থগিত হয়ে যাবে। আজ্ঞে না! ভারতের সংবিধানের পক্ষে, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে যে সব অমুসলিম শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছিলেন, এবার তাদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের মনকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কারণ, তাদের মনে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর বিরুদ্ধে ঘৃণা তৈরি করে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। তখন সংবিধান বিরোধী পদক্ষেপ নিতে খুব বেশি সমস্যা হবে না বলেই মনে করছে চক্রান্তকারীরা। আর এটা করা হচ্ছে, অসাধারণ একটি পদ্ধতিতে। কে না জানে  একটি মিথ্যেকে সত্যে পরিণত করার সবচেয়ে বড়ো অপকৌশল হলো — লাগাতার অপপ্রচার এবং পরিকল্পনা?

সেই পাঁচজন যুবকের চক্রান্তে গোবেচারা মানুষটির কাছ থেকে ছাগল হাতানোর গল্পের মতো। স্পষ্টত সেটি ছিল একটি ছাগল। তার শিং আছে, ব্যা-ব্যা করে ডাকে। তবু রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ধূর্ত যুবকেরা যখন বলতে লাগলো — ছিঃ ছিঃ! আপনি কুকুর নিয়ে যাচ্ছেন কেন মশাই? প্রথমে সে বিশ্বাস করেনি তাদের কথা। কারণ সে জানতো এটা কুকুর নয়, এটা একটা নিরীহ ছাগল। দ্বিতীয়বারও সে বিশ্বাস করেনি। কারণ, পশুটির শিং আছে কি না নিজে হাতে পরখ করেছে। তৃতীয় ব্যক্তির কথায় তার মনে একটু সন্দেহের উদ্রেক হলো। ভাবলো, ঠিক দেখছি তো! চতুর্থ ব্যক্তির কথা শুনে নিজের বিশ্বাস একটু টলে গেলো। মনে হলো, হলে হতেও পারে! একটি নয়, দুটি নয় — চার চারটি চ্যানেল যখন বলছে — ওহ সরি; চার চারজন মানুষ যখন বলছে — এটা কুকুর, তাহলে বোধহয় এটা তাই হবে। সকলের কি চোখ খারাপ? পঞ্চমবার শোনার পর সে এবার নিজেই ঘোষণা দিলো — এতক্ষণ যাকে সে ছাগল ভেবে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, সেটি আসলেই একটি কুকুর। যে কোনও সময় ভেক করে কামড়ে দিতে পারে। তারপর সে সেটিকে রাস্তায় ছেড়ে দিলো।

আসলে যে সে নিজেই একটি ছাগল বনে গেছে, এটা আর সে ধরতে পারলো না। এটা একটি গল্প।

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ জনতাকে বোকা ভাবার কোনও কারণ নেই। যতই তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করুক, যতই চক্রান্ত করুক — বিভেদকামীরা সফল হবে না। কিন্তু সফল-অসফল তো অনেক পরের কথা। কেননা এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। চেষ্টায় তো তারা ত্রুটি রাখছে না কোথাও। মুশকিল হলো, এর জেরে তৈরি হওয়া হিংসা জর্জরিত পরিস্থিতি দেশের মানুষকেই তো সহ্য করতে হবে? তার উপরে সদ্য লকডাউন পরবর্তী বেহাল অবস্থা। উঠে দাঁড়ানোর পর আবার এই দেশ অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে বিরাট একটি প্রশ্ন চিহ্নের পড়ে যেতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত — যেভাবে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে, ঠিক সেভাবেই মিথ্যে প্রচার ও হিংসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তা না হলে করোনা থেকে মুক্তি পেলেও দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাওয়া অসম্ভবের কিছু নেই।

লেখকঃ ইসমাইল দরবেশ,হাওড়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here