আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল এর বিখ্যাত কবিতা “আয খাবে গিরান খেয” “যবুর-এ-আযম”–কাব্যগ্রন্থের ১৯শ সংখ্যক কবিতা ও এর কাব্যানুবাদ “স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ”

মূল : আয খাবে গিরান খেয

আয়ে গুন্চাহ খাবীদাহ চু নার্গিস নিগ্রান খেয
কাশানাহ মা রফত বাতারাজ গুমা খেয
আয নালা মুর্গে চমন, আয বাঙ্গে আযাঁ খেয
আয গর্মী হাঙ্গামাহ আতশ নফসাঁ খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !

আয খুরশীদ কে পারাইয়াহ বাসীমায়ে সাহর বাস্ত
আওয়েযাহ বাগূশে সাহর আয খূনে জিগর বাস্ত
আয দাশত ওয়া জাবাল কাফেলা হা রাখতে সফর বাস্ত
আয়ে চশমে জাহাঁ বীন বেহ তামাশায়ে জাহাঁ খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !

খাবের হামা মানিন্দ্ গুবার সার রাহেস্ত
য়েক নালায়ে খামূশ ওয়া আসরে বাখতাহ আহেস্ত
হর জাররা ইঁ খাকে গিরাহ খুরদাহ নিগা হ্যায়েস্ত
আয হিন্দ ওয়া সমরকন্দ ওয়া ইরাক ওয়া হামদাঁ খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !

দরইয়ায়ে তু দরইয়াস্ত কে আসুদাহ চু সহর অস্ত
দরইয়ায়ে তু দরইয়াস্ত কে আফযুঁ নশুদ ওয়া কাস্ত
বেগানায়ে আশূবে ওয়া নাহাঙ্গ অস্ত চে দরইয়াস্ত !
আয সীনায়ে চা-কশ সিফতে মৌজে রওয়ান খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !

ইঁ নুকতাহ কুশায়েন্দাহ অসরারে নাহান অস্ত
মূলক অস্ত তনে খাকী ওয়া দ্বীন রূহে রওয়ান অস্ত
তন যিন্দাহ ওয়া জাঁ যিন্দাহ যে রবতে তন ওয়া জান অস্ত
বা খিরকাহ ওয়া সাজ্জাদাহ ওয়া শামসের ওয়া সীনান খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !

নামূসে আযল রা তু আমিনী তু আমিনী !
দা-রা-য়ে জাহাঁ রা তু ইয়াসারী তু ইয়ামিনী
আ-য়ে বান্দা-য়ে খাকী ! তু যমানী তু যমিনী
সহবায়ে ইয়াক্বীন দর কশ ওয়া আয দায়রে গুমান খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !
ফরিয়াদ যে-আফরঙ্গ ওয়া দিল-আ-ওয়েযী আফরঙ্গ
ফরিয়াদ যে-শিরীনীয়ে ওয়া পরভেযী আফরঙ্গ
আলমে হামাহ বীরানাহ যে-চঙ্গীযীয়ে আফরঙ্গ
মি’মারে হারম ! বায বাহ তা’মীরে জাহাঁ খেয
আয খাবে গিরান, খাবে গিরান, খাবে গিরান খেয
আয খাবে গিরান খেয !
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ — আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল
কাব্যানুবাদ : সা’আদুল ইসলাম
ওরে ও ঘুমন্ত কলি ! ফুলের মতো চোখ মেলে জাগ
ঘর যে আমাদের বিষণ্ণতায় বিধ্বস্ত বরবাদ
ফুলের বাগানে পাখির কাকলি, আযানের সুরে জাগ
বেড়ে ওঠে তাপ যেন আগুনের শ্বাস, জাগ
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !
সূর্য বেধেছে মাথার চূড়ায় প্রভাতের মণিহার
ভোরের কানে পরছে সে দুল হৃদয়-শোণিত ধার
প্রান্তর-মরু-পাহাড় থেকে বেঁধেছে শ্রমীদল বোঁচকা তার
ওরে ও জগৎদ্রষ্টা ! পৃথিবীর রঙ্গ দেখতে জাগ
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !
প্রাচ্যবাসী যত ধুলোয় লুটোয় রাস্তায় তার বাস,
ও যেন যতেক নীরব নিথর আর্তনাদের হাহাশ্বাস,
ওর দৃষ্টিতে আর কিছু নেই ; দুঃখের মাটি, ভাঙা দৃষ্টির ছাঁচ ;
ভারত ও সমরকন্দ ও ইরাক ও হামদান — জাগ,
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !
তোর জীবননদী এমন নদী —তৃপ্ত নীরবতা যেন মরুর
তোর জীবননদী এমন নদী —কোথায় পানির ভরা লহর ?
পানি নেই সেথা ; কুমিরের আঁসু, তবু নদী—যতই হোক-না তালপুকুর
ফাটা বুকে তার তবু ছটফট করে তরঙ্গলীলা — জাগ !
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !
কী ব্যঞ্জনা রয়েছে সেথায় ? করে দ্যাখ তাতে অবগাহন
— দেশের শরীর মাটি দিয়ে গড়া, ধর্ম দেশের প্রাণ—
সুস্থ শরীর আর জীবন্ত প্রাণ, তবে তো দেহে-মনে শক্তি-শান ;
একটি চাদর, জায়নামাজ এক, তরবারি আর বর্ষা এক,
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !
সৃষ্টির সম্ভ্রমরক্ষার জন্য তুই আমানতদার, বিশ্বস্ত তুই-ই
বিশ্ব-শাসনের জন্য তুই বামবাহু, দক্ষিণও তুই-ই
হে মাটির বান্দা, ছিলি সময়ের দাস, হয়েছিস দাস ভূমির !
দৃঢ় বিশ্বাসের মদিরা পান কর, ভাঙ সংশয়-মন্দিরদ্বার, জাগ,
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !

ফরিয়াদ–পশ্চিমার হাত থেকে, পশ্চিম– ও যে হৃদয়-হরণ
ফরিয়াদ– মোহিনী-শিরীন ইংরেজ থেকে, ইংরেজ– আহা সভ্য-সুজন !
সেই চেঙ্গিসী ইংরেজ-হাতে বিশ্ব যে হয়েছে বিরান ;
কাবার স্থপতি তুই ! বিশ্ব-নির্মাণের স্থপতি হয়ে জাগ,
স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম, স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !
স্বপ্নের ঘুম থেকে জাগ !

কাব্যানুবাদ : সা’আদুল ইসলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here