গুডিবয়! A tribute to rishi kapoor

হিন্দি সিনেমার জগতে ঋষি কাপুরের প্রবেশ এবং প্রস্থান, দুইই তাৎপর্যপূর্ণ।

৭০ সালে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসাবে বাবার ছবি ‘মেরা নাম জোকার’এ যে মোটাসোটা ফর্সা ‘গুডিবয়’ ছেলেটি অভিনয় করেছিল,সে যে পরবর্তীকালে বাণিজ্যিক ছবিতে নিজস্ব ঘরানা তৈরি করবে এমন ভাবাটা সমকালীন প্রেক্ষিতে বাড়াবাড়ি ছিল।
‘দামিনী’ দেখতে দেখতে আমার মনে হচ্ছিল,পরবর্তী সময়ে দেড়শোরও বেশি ছবিতে এই মানুষটির কাজ করা কিংবা দর্শকমনে জায়গা করার অন্যতম রহস্যই হলো কাপুর ঘরানার স্বতন্ত্র ক্যারিশমাটিক অভিনয় বর্জন এবং চরিত্রের বাতাবরণে নিজেকে পাল্টে নেওয়ার কারণেই ইনি রাজ কাপুর পরবর্তী কাপুর বংশে সবচেয়ে বড়ো অভিনেতা। এমনকি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বললেও বেশি হয়না…

অধ্যাপক সৌমিক কান্তি ঘোষ

ভারতের সত্তর দশকের অশান্ত সময়ের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে যে নৈরাজ্যের সমাহার ছিল সেখানে ‘রাগ’ আর ‘ভগবানে বিশ্বাস’ এই ছিল সামাজিক মেরুকরণ।
একদিকে রাগী যুবক অমিতাভ বচ্চনের স্ক্রিন প্রেজেন্টেশন অপরদিকে পুজোর থালা হাতে নিরূপা রায়দের ‘সন্তোষী মা’ এর কাছে আত্মসমর্পণ। এরই মাঝে ববির মতো রোমান্টিক ও ধনী দরিদ্রের সেই বস্তাপচা আবেগীয় ছবিতে হাজির হলেন বড়লোকের গুডিবয় ছেলে ঋষি কাপুর।

যুদ্ধ,মন্বন্তর,বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্যে স্বাধীনতা পরবর্তী সদ্য নাগরিকত্বে পা দেওয়া যুবসমাজ নিজেদের আবিষ্কার করলো উদ্দেশ্যহীন উপায়হীনতার রুক্ষ বাস্তবের পরাকাষ্ঠায়। ‘প্রেম’ নয় হৃদয়ের বাষ্প তখন ‘খিদে’। এহেন অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিকতা বিরোধী আন্দোলনে আর অরাজকতায় আছড়ে পড়লো যাবতীয় ‘ক্রোধ’। বিনোদন ই বা বাদ থাকবে কি করে, সাড়ে ছ’ফুটের রাগী যুবকের ব্যারিটোনে তখন নিজেদেরই আইডেন্টিফাই করছে আপামর যুব সমাজ।

সেখানে ফর্সা,সুন্দর,উচ্চবিত্তের প্রতিভূ হিসাবে ঋষি কাপুর মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘হাম তুম এক কামরে মে’ হিট হলো শুধুমাত্র যৌনতার প্রান্তিকতায়। তবু বড়লোকের ছেলে হয়েও নিম্নবর্গীয় প্রেমকাহিনীতে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুললেন এই তরুণ অভিনেতা। আশির দশকের কর্জ(karz) ছবিতে যা পরিণতি পায়।

কাপুর পরিবারের একমুখী টিপিক্যাল সফিস্টিকেটেড ক্যারিশমা থেকে সরে এসে নিম্নবর্গীয় এসেন্সে বিবর্ধিত হলো।
‘সরগম’ ছবিতে তাঁর সো কল্ড আন্ডার এক্টিং ই যার প্রমান।

আশির দশকে অনেক চকোলেট হিরো এসেছেন,আবার চলেও গেছেন। থেকে গেছেন ঋষি কাপুর।
সমানভাবে পাল্লা দিয়ে গেছেন ‘ডিস্কো ডান্সার’ খ্যাত মিঠুন চক্রবর্তী বা সমসাময়িক একশন হিরোদের মাঝে ‘চাঁদনি’ ছবিতে বিনোদ খান্নাই হোক বা ‘দিওয়ানে’ ছবিতে শাহরুখ খানই হোক ঋষিকাপুর তাঁর নিজস্বতায় উজ্জ্বল। চরিত্রানুযায়ী নিজেকে বদলে নেবার অদম্য চেষ্টাই তাঁকে স্বান্তন্ত্রতা দিয়েছিল।
প্রেমিক থেকে দায়িত্বশীল স্বামী কিংবা একশন থেকে কমেডি,জীবন চর্চার এই পণ্যবোঝাই সংস্কৃতিতে নিজেকে রপ্তানিযোগ্য করে তুলতে পেরেছিলেন জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার এই আপাতনিরীহ নায়কটি।
তাঁর ব্রিটিশ ছবি ‘Dont stop Dreaming’ (2007) এ অভিনয়ের কথা তুলে বলতেই হয় যে সময় আপনি প্রস্থান করলেন সেটাও দেশ এবং কালের কাছে বড়ো অস্থির সময়।

সত্তর দশকের কালছায়া এখানেই পরিবর্ধিত। তবুও আপামর দর্শকের মনে আপনার আসনটি পাকা করে গেলেন চির প্রেমিক হিসাবে।

লেখক: সৌমিক কান্তি ঘোষ। (বিশিষ্ট চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ, লেখক অধ্যাপক)

 

 

….” Our reveals are now ended. These our actors….
Leave not a rack behind.We are such a stuff.
As dreams are made on,and our little life
Is rounded with a sleep..” – ( The Tempest; Prospero. IV.i)

“Maut aaye na to woh pariyon ke tarah aani chahiye. Lekin zindegi mein Jo karna chahiye.. woh sab Kar Lia ho to hi pari aati hai! ” ( 102 not out)

বা

” Death aur shit ..yeh do cheezen kisi ko kahin bhi aa sakti Hy..” – Piku.

 

সৃজনী দাস

পরপর দুটো ডায়ালগে কী সুন্দর মিল।দে স্পিক অফ্, টেকিং ডেথ পজিটিভলি,উইথ নো ক্রাইজ,নো বিটারনেস,নো গিল্ট , অ্যান্ড নট উইথ এ ফিলিং দ্যাট ,সামথিং হ্যাজ বিন লিফ্ট বিহাইন্ড!

এরকমই মিল ঘটে আমারও।গত সপ্তাহে প্রাইম পাওয়ার পর,যেদুটো সিনেমা জাস্ট পরপর দেখি,একদিনের ব্যবধানে, সেই দুটো ঠিক এরকমই সিক্যুয়ালে।

প্রথমে ইরফান খানের Karwaan,
আর দ্বিতীয়,ঋষি কাপুরের,
Kapoor and sons! Karwaan এ ইরফানের সাবলীল অভিনয় দেখে মনে হয় হোর যাই হোক, হেরে যাওয়ার না। হেঁটে যাওয়ার। অভিনাশ আর তানিয়া এর ওপর হাজার রাগ করেও তাদের সাথে সে গোটা রাস্তা গেছে,গাড়ি ভেঙে যাওয়াতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও পাশের বেড এর বৃদ্ধের স্ত্রী কে ঝাড়ি মেরে , গোটা রাত ধরে কবিতা শুনিয়ে ,সিনেমার শেষে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া! সত্যিই মনে হয়েছিল, লোকটা আবার হাঁটবে।

হিন্দি মিডিয়ামে আবার এলিট ক্লাস পার্টিতে, ভাংড়া নাচবে, আবার তেলেঙ্গানা মুভমেন্ট এর মুখ হবে, আবার দিল্লি থেকে গাড়ি চালিয়ে কলকাতা আসবে, আবার লাঞ্চ বক্স খুলবে, আবার নেমসেকে অসীমার হাত ধরবে। আবার পাই হবে!

জীবন টা তার সত্যিই ২২/৭ হবে! চলতেই থাকবে!
বা কাপুর অ্যান্ড সন্স এ,ঋষি কাপুর কে দেখেও এক অনুভূতি আমার হয়।

নব্বই বছরের বৃদ্ধ হাসপাতালে ভর্তি। সেখানে তিনি নাতিদের ডেকে ট্যাবে মধুবালার ছবি দেখছেন, বা নাতিদের ঘরে ডেকে সিগারেট খাচ্ছেন,যেটুকু মুহূর্ত হাতে আছে অার, হাসতে হাসতে উপভোগ করছেন। অথচ তার নাতি বা ছেলে প্রতিটা নিজস্ব মুহূর্ত চিন্তায় আছে,ঝামেলায় আছে,কষ্টে আছে। ঘেঁটে আছে।সুন্দর নেই!
বা,আবার বলবেন ঋষি কাপুর ,

“Jab do insaan ek doosre ki rooh chu leh,
Usse pyar kehte Hein! “

পরপর দুজন কেমন জানি হাত ধরাধরি করে চলে গেলেন। একই অসুখ, একই শহর,একই সময়..
“Hum sainkadon Janam lete hy.kabhi pati patni Bankar,kabhi premi Bankar, to kabhi aanjan Bankar!Lekin milte zaroor Hy aakhir mein.Nahi Milenge to Kahani khatam kaise hogi! Isse pyar kehte Hy!” ( Rishi Kapoor)
বা,
“Main tha, mein hu,mein hi rahunga!”-( Hyder, Irrfan Khan)
বা,
“Mein markar bhi mar nhi saka,
Aur na hi jeekar ji sakta hu!” – Rishi Kapoor
এই দুজন, মনে হয়না কোনো অপূর্ণতা রেখে চলে গেছেন।তাদের যা কিছু পাওয়ার ছিল,দেওয়ার ছিল , তারা উজাড় করে দিয়েছেন।
ভালো মানুষেরা বেশিদিন থাকেন না। ওনাদের বিচ্ছেদ হয়না,ছেড়ে যাওয়া হয়না।
দে  স্টার্টেড ফর সাম ডিফারেন্ট জার্নি। দে মেড দি ডায়ালগ অফ রাজেশ খান্না আবসলিউটলি কারেক্ট,

Babumoshai, zindegi bari honi chahiye,lambi nhi!”

দে টুক কোয়ালিটি ওভার কোয়ান্টিটি! দে অার হ্যাপি।দে উড বি হ্যাপি। দে মেড আস হ্যাপি।
Because they believed,
Jiwan ke din chhote hi sahi,
Hum bade Dil wale
Kal ki hame fursat kaha
Soche jo hum matwale!

লিখেছেনঃ সৃজনী দাস, ছাত্রী, বেথুনে ইতিহাস নিয়ে প্রথম বর্ষে পড়ছেন। সুবক্তা এবং অনেক ডিবেটের চ্যাম্পিয়ন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here