মানে না মানা

পঁচিশে বৈশাখের নিবেদন, ১৪২৭

সা’আদুল ইসলাম

হে কবি, প্রেরণা হে, চিরজাগরূক প্রিয়!
কঠিন বাস্তবের রূঢ় ভূমিতটে
একবার ফেরাও চোখ
যে চোখে কেবল লেখা ছিল
চিরপ্রেমের কথাকলি
যে চোখের মণিদীপ্তিতে ছিল
শুধু দূর থেকে দূরের আকাশ
আর সুদূরের মায়াবেশ
অথবা গভীর গভীর ভালোবাসার
বিশ্বদোলানো বিচ্ছুরণ !
একবার ফেরাও চোখ

একদিন দেখেছিলে,
কাঁঠালের ভূতি, মরা বেড়ালের ছানা,
হরিপদ কেরানির সেই গলি,
সেই কানাগলির কাঙাল পদ্য,
কষ্টের মধ্যে খুঁজেছিলে
প্রাসাদউঁচু কনসার্ট থেকে ভেসে আসা
সিন্ধু-বারোয়াঁর সৌখিন মজদুরি।
সেদিন সবের মধ্যে আলো খুঁজেছিলে, প্রিয়!

একবার ফেরাও চোখ
দ্যাখো, আজ চব্বিশে বৈশাখে
বিশাখাপত্তনমের গলিতে
কর্পোরেট মাফিয়ার গ্যাসের ফুড়ুল থেকে
আছড়ে পড়া বন্ধদম আলো
ম্রিয়মাণ লুটিয়ে দিয়েছে কতশত
পুরুষ নারী যুবা ও যুবতী আস্তাকুঁড় পথে,
ওরা কি ঘুমোয় এখন?
যুবার বাড়ানো হাতটি কি কখনো নাগাল পাবে
প্রিয় নারীটির কণ্ঠদেশ?
গ্রিসের ছাইদানে খোদাই প্রেমিকের
আকুল স্থির হাত
যে হাত ছুঁতে চাইছে প্রেমিকার আঁচল?
কীটসের ওড অন আ গ্রিসিয়ান আর্ন
নতুন এঁকেছে ছবি কর্পোরেট বিশাখাপত্তনম !

ওরা কারখানার শ্রমিক
অথবা লকডাউনে ওষুধ কিনতে আসা পথিক
ওদেরকে এই প্রতিযোগিতা মানায়? বলো প্রিয় !

হরিপদ কেরানির কষ্টকে
মোহিনী বাঁশিতে ভরতে চেয়েছিলে, কবি?
আজ দিল্লির কানাগলিতে
লোলশিখা আগুন আর পাথরানো পাথরের স্তুপ,
ভাঙা দোকানের গদ্যছন্দী ব্যালকনি,
খালপাড়ে জল খাচ্ছে পিপাসার্ত লাশ !
লকডাউন কোভিড-করোনায়
মাইলের পর মাইল জুড়ে
কাঁধে নিয়ে শিশু কিংবা নুয়ে পড়া বউ,
ন্যাতানো মাকে কোলে নিয়ে হা-ঘর ছেলে
অথবা অসুস্থ ক্ষুধাতুর ভাইকে পিঠে নিয়ে হতভাগ্য দাদা
হেঁটে চলেছে, দেখো, ভাঙরা নদীর স্রোত !
এসব কি দেখতে পায় তোমার ও গহীন চোখ?

বিশাখাপত্তনমের লুটোনো ছবির পরেই শুনি ফেসবুকে
বন্ধুকন্যা আহিরীর গান — ‘ও যে মানে না মানা’ !

এতো আলো এতো গান এতো সুর
বেদনার মধুভান্ড থেকে ঠেলে দিয়েছো উপুড়,
হে প্রিয়, এসো, দ্যাখা দাও,
পঁচিশে বৈশাখ বিপুল আসে, অকুল চলে যায়
এখনও কোথায় তুমি ?
আমরা আজও অনিমেষ আলো খুঁজি, বুদ্ধপূর্ণিমার
খুঁজি অনিমিখ সুর –‘মানে না মানা’-র !

সা’আদুল ইসলাম
তিলপি, দ ২৪ পরগনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here